ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
সংবাদ প্রকাশের পর এসআই ক্লোজ : বদলগাছীতে ৩ হাজার টাকার ফোনে ৪ হাজার ঘুষ মান্দায় সন্ত্রাসী রাজু মেম্বারের গ্রেপ্তার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম সারাদেশে খাল খননের মাধ্যমে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন করেছিলেন জিয়াউর রহমান —নিয়ামতপুরে ভূমিমন্ত্রী আদমদীঘিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ইফতার পার্টি পরিচালনাকারী আশিক গ্রেপ্তার সাপাহারের গোপালপুর ফাজিল মাদ্রাসায় নতুন ভবনের ছাদ ঢালাই কাজের উদ্বোধন বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বিষয়ে উঠান বৈঠক নিয়ামতপুরে ৮টি ইউনিয়ন পরিষদে জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান বিষয়ক কর্মশালা  মান্দায় পুলিশের সহায়তায় বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ আত্রাইয়ে স্ত্রী-সন্তানকে জবাই করে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা নওগাঁয় শতকোটির সড়ক উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করেছেন প্রকৌশলী নূরে আলম

নওগাঁ-২ আসনের ফলাফল বিশ্লেষণ বিএনপির প্রবীণ নেতা সামসুজ্জোহা খানের পরাজয়ের নানা কারণ উঠে এসেছে “আমাদের নওগাঁয়” : পাল্টে দিয়েছে সকল হিসাব-নিকাশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৫৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশেষ প্রতিনিধি : সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁর ছয়টি আসনের মধ্যে বিএনপি বিজয়ী হয়েছেন ৫টিতে আর জামায়াতে ইসলামী বিজয়ী হয়েছেন ১টি আসনে। নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনে বিএনপির তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খানকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। যার কারণে ধানের এলাকায় ধানের শীষ ৫টি আসন পেলেও একটিতে ভাগ বসিয়েছে দাঁড়িপাল্লা।

নওগাঁ জেলার মধ্যে বিএনপির সবচেয়ে প্রবীণ নেতা সামসুজ্জোহা খান। তিনিই ছিলেন বিএনপির দলীয় প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র পুরনো নেতা। তার প্রতি দলের ছিল চরম আশা আকাঙ্খা। তিনি নির্বাচিত হবেন এমটাই ছিল সকলের প্রত্যাশা। এমনকি নির্বাচিত হয়ে তিনি মন্ত্রীও হতে পারেন এমন বহু কথা জনশ্রুতি ছিল। অথচ এই প্রবীণ নেতাই পরাজিত হয়েছেন। এখানে ছিল না কোনো স্বত্রন্ত্র প্রার্থী। তারপরও পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করতে হয়েছে তিনবারের সাবেক এমপি ও প্রবীণ এই নেতাকে। আর এতেই হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে। হচ্ছে জল্পনা ও কল্পনা। চলছে বিশ্লেষণ। আর এমনই তথ্য তুলে নিয়ে এসেছে “দৈনিক আমাদের নওগাঁ”।

নওগাঁ-২ আসনে বিএনপির পরাজয়ের বিভিন্ন কারণ : বিভিন্ন কারণে এই আসনে এবারের ভোটারদের নতুন মুখের প্রতি আগ্রহ ছিল বেশি। অথচ নওগাঁর ৬টি আসনের মধ্যে একমাত্র বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জোহা খানই ছিলেন প্রবীণ নেতা ও পুরনো মুখ। আর প্রবীণ এই নেতা ঐতিহ্যগত ভাবেই কখনও চাননি বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে উঠুক। এ কারণে দলের সম্ভাবনাময় নেতাদের তিনি দুরে সরে দিয়েছেন, রেখেছিলেন কার্যক্রম থেকে দূরে। যার মধ্যে অন্যতম হলেন সাবেক ছাত্রনেতা আবু তাহের চৌধুরী মন্টু, সাবেক পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন ও নজিপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বায়েজীদ রায়হান শাহীন প্রমুখ। আরো জানা যায়, দল পরিচালনার ক্ষেত্রে পকেট কমিটি গঠন এবং পারিবারিক বিশেষ করে স্ত্রীর প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ। এদিকে আরেকটি কারণ ছিল নির্বাচনের আগ মুহুর্তে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী না হলেও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরীর দল থেকে বহিষ্কার হওয়া। যার পিছনে সামসুজ্জাহা খানের হাত রয়েছে বলেই ধরে নিয়েছিল বিএনপির তৃণমুল কর্মী সমর্থকরা। এ কারণে তৃণমুল নেতাকর্মীরা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় বলে অনেকের ধারণা।

অপরদিকে দলের একজন ত্যাগী নেতা হিসাবে পরিচিত পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ রায়হান শাহীনকে নির্বাচনের সময় দলের সকল কর্মকান্ড থেকে দূরে রাখা হয়। অথচ বিএনপি মনোনয়ন প্রদানের পূর্বে মাঠ পর্যায়ে জরিপ করার সময় এই বায়েজিদ রায়হান শাহিনই পেয়েছিল ৮৫ স্কোর এবং খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী পেয়েছিল ১২ স্কোর। অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সামসুজ্জোহা খান পেয়েছিল ১০ স্কোর। তবুও সিনিয়র ও প্রবীণ নেতা হওয়ার কারণে সামসুজ্জোহা খানকে দলের মনোনয়ন দেওয়া হয় এমন তথ্য খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

আর সামসুজ্জোহা খান বিএনপির প্রার্থী হওয়ার পরই বায়েজিদ রায়হান শাহিনকে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়। দলের জনপ্রিয় নেতা শাহিনকে এভাবে নির্বাচনের সময় নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে দূরে রাখার বিষয়টিকে সহজে মেনে নিতে পারেনি স্থানীয় কর্মী সমর্থকরা। এ কারণে তারা নির্বাচনের সময় সামসুজ্জোহা খানের তথা ধানের শীষ প্রতীকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় বলে অনেকে ধারণা করছেন। যার কারণে পরাজিত হতে হয় প্রবীণ এই নেতাকে। ফলে পাল্টে যায় সকল হিসাব-নিকাশ। তবে কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলতে চান না। সরাসরি কিছু বলতেও চান না।

জানতে চাইলে মনোনয়ন প্রত্যাশী খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী বলেন, তিনি ওই আসনে জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু দল তাকে নমিনেশন না দেওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছিল। তারপরও আমি দলের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হইনি।

কারণ জানতে চাইলে নজিপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ রায়হান শাহীন বলেন, এখানে বিএনপির পরাজয় মানে আমাদের পরাজয়। এই জন্য খুব খারাপ লাগছে। তারপরও বলবো সমন্বয়হীনতার কারণেই এখানে পরাজয় হয়েছে।

পরাজিত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সাবেক এমপি সামসুজ্জোহা খানের সহধর্মিনী ও নওগাঁ জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামিনা পারভিন পলি বলেন, এটা আমাকে না বলে, আমার কথা না লিখে, অন্যদের কাছে জানলে ভালো জানতে পারবেন। কি এবং কাদের কারণে পরাজিত হয়েছে। প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি নওগাঁ জেলার সভানেত্রী হয়ে এ পর্যন্ত যতোগুলো মিটিং মিছিল করেছি, প্রতিটি প্রোগ্রামে সকল উপজেলা থেকে মহিলাদের কনভেন্স করে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক ভুমিকা পালন করতে হয়। এগুলো একেক লোক একেক রকম বলবে। আপনি ভালো করেই আমাকে চেনেন ও জানেন। আমি রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে, এই রাজনীতির কারণে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। আর আমি জেলার রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত থাকি। উপজেলার কোনো বিষয়ে কোনো প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ খাটানোর কোনো প্রয়োজন নেই। আমি এ ধরণের কাজ কখনও করবো না। কারণ আমার রাজনীতি বিলীন করে দিবো না। আমি নওগাঁ জেলার সভানেত্রী হিসেবেই সব জায়গায় বক্তব্য দিই। কাজেই এমপির মিসেস হিসেবে এলাকায় রাজনীতিতে প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ কখনই করিনি, দরকার কি? এছাড়া কোনো অফিস আদালতে গিয়ে প্রভাব খাটানোর কোন প্রমাণও কেউ দিতে পারবে না।

পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলে বিএনপি প্রার্থী প্রবীণ নেতা সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খান বলেন, আমার কারণেই আমি পরাজিত হয়েছি। আমি কারো দোষ দিব না। আর অন্যান্য বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারো ভাই আওয়ামী লীগ নেতা, কেউ ডাইরেক্ট অন্য প্রার্থীর ভোট করেছে আবার কারো ইচ্ছে আছে এমপি হওয়ার। আপনি আমাকে জিজ্ঞেস না করে এলাকায় এসে তদন্ত করেন তাহলেই পেয়ে যাবেন। আমি কাউকে দূরে রাখিনি। তারপরও বলছি আমার কারণেই আমি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছি।

উল্লেখ্য, পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-২ আসনে বিভিন্ন দলের ৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এখানে বিএনপির তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খানকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। তিনি (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৫২৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামসুজ্জোহা খান (ধানের শীষ) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩ ভোট। জামায়াত প্রার্থী ৬ হাজার ৯৯৩ ভোটোর ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। আর আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মতিবুল ইসলাম ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৫৮০ ভোট। এ আসনের ১২৪টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৬ জন।  এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭০টি। যা মোটের ভোটের ৭৬ দশমিক ৮১ শতাংশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নওগাঁ-২ আসনের ফলাফল বিশ্লেষণ বিএনপির প্রবীণ নেতা সামসুজ্জোহা খানের পরাজয়ের নানা কারণ উঠে এসেছে “আমাদের নওগাঁয়” : পাল্টে দিয়েছে সকল হিসাব-নিকাশ

আপডেট সময় : ১২:০২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি : সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁর ছয়টি আসনের মধ্যে বিএনপি বিজয়ী হয়েছেন ৫টিতে আর জামায়াতে ইসলামী বিজয়ী হয়েছেন ১টি আসনে। নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনে বিএনপির তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খানকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। যার কারণে ধানের এলাকায় ধানের শীষ ৫টি আসন পেলেও একটিতে ভাগ বসিয়েছে দাঁড়িপাল্লা।

নওগাঁ জেলার মধ্যে বিএনপির সবচেয়ে প্রবীণ নেতা সামসুজ্জোহা খান। তিনিই ছিলেন বিএনপির দলীয় প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র পুরনো নেতা। তার প্রতি দলের ছিল চরম আশা আকাঙ্খা। তিনি নির্বাচিত হবেন এমটাই ছিল সকলের প্রত্যাশা। এমনকি নির্বাচিত হয়ে তিনি মন্ত্রীও হতে পারেন এমন বহু কথা জনশ্রুতি ছিল। অথচ এই প্রবীণ নেতাই পরাজিত হয়েছেন। এখানে ছিল না কোনো স্বত্রন্ত্র প্রার্থী। তারপরও পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করতে হয়েছে তিনবারের সাবেক এমপি ও প্রবীণ এই নেতাকে। আর এতেই হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে। হচ্ছে জল্পনা ও কল্পনা। চলছে বিশ্লেষণ। আর এমনই তথ্য তুলে নিয়ে এসেছে “দৈনিক আমাদের নওগাঁ”।

নওগাঁ-২ আসনে বিএনপির পরাজয়ের বিভিন্ন কারণ : বিভিন্ন কারণে এই আসনে এবারের ভোটারদের নতুন মুখের প্রতি আগ্রহ ছিল বেশি। অথচ নওগাঁর ৬টি আসনের মধ্যে একমাত্র বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জোহা খানই ছিলেন প্রবীণ নেতা ও পুরনো মুখ। আর প্রবীণ এই নেতা ঐতিহ্যগত ভাবেই কখনও চাননি বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে উঠুক। এ কারণে দলের সম্ভাবনাময় নেতাদের তিনি দুরে সরে দিয়েছেন, রেখেছিলেন কার্যক্রম থেকে দূরে। যার মধ্যে অন্যতম হলেন সাবেক ছাত্রনেতা আবু তাহের চৌধুরী মন্টু, সাবেক পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন ও নজিপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বায়েজীদ রায়হান শাহীন প্রমুখ। আরো জানা যায়, দল পরিচালনার ক্ষেত্রে পকেট কমিটি গঠন এবং পারিবারিক বিশেষ করে স্ত্রীর প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ। এদিকে আরেকটি কারণ ছিল নির্বাচনের আগ মুহুর্তে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী না হলেও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরীর দল থেকে বহিষ্কার হওয়া। যার পিছনে সামসুজ্জাহা খানের হাত রয়েছে বলেই ধরে নিয়েছিল বিএনপির তৃণমুল কর্মী সমর্থকরা। এ কারণে তৃণমুল নেতাকর্মীরা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় বলে অনেকের ধারণা।

অপরদিকে দলের একজন ত্যাগী নেতা হিসাবে পরিচিত পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ রায়হান শাহীনকে নির্বাচনের সময় দলের সকল কর্মকান্ড থেকে দূরে রাখা হয়। অথচ বিএনপি মনোনয়ন প্রদানের পূর্বে মাঠ পর্যায়ে জরিপ করার সময় এই বায়েজিদ রায়হান শাহিনই পেয়েছিল ৮৫ স্কোর এবং খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী পেয়েছিল ১২ স্কোর। অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সামসুজ্জোহা খান পেয়েছিল ১০ স্কোর। তবুও সিনিয়র ও প্রবীণ নেতা হওয়ার কারণে সামসুজ্জোহা খানকে দলের মনোনয়ন দেওয়া হয় এমন তথ্য খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

আর সামসুজ্জোহা খান বিএনপির প্রার্থী হওয়ার পরই বায়েজিদ রায়হান শাহিনকে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়। দলের জনপ্রিয় নেতা শাহিনকে এভাবে নির্বাচনের সময় নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে দূরে রাখার বিষয়টিকে সহজে মেনে নিতে পারেনি স্থানীয় কর্মী সমর্থকরা। এ কারণে তারা নির্বাচনের সময় সামসুজ্জোহা খানের তথা ধানের শীষ প্রতীকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় বলে অনেকে ধারণা করছেন। যার কারণে পরাজিত হতে হয় প্রবীণ এই নেতাকে। ফলে পাল্টে যায় সকল হিসাব-নিকাশ। তবে কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলতে চান না। সরাসরি কিছু বলতেও চান না।

জানতে চাইলে মনোনয়ন প্রত্যাশী খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী বলেন, তিনি ওই আসনে জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু দল তাকে নমিনেশন না দেওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছিল। তারপরও আমি দলের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হইনি।

কারণ জানতে চাইলে নজিপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ রায়হান শাহীন বলেন, এখানে বিএনপির পরাজয় মানে আমাদের পরাজয়। এই জন্য খুব খারাপ লাগছে। তারপরও বলবো সমন্বয়হীনতার কারণেই এখানে পরাজয় হয়েছে।

পরাজিত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সাবেক এমপি সামসুজ্জোহা খানের সহধর্মিনী ও নওগাঁ জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামিনা পারভিন পলি বলেন, এটা আমাকে না বলে, আমার কথা না লিখে, অন্যদের কাছে জানলে ভালো জানতে পারবেন। কি এবং কাদের কারণে পরাজিত হয়েছে। প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি নওগাঁ জেলার সভানেত্রী হয়ে এ পর্যন্ত যতোগুলো মিটিং মিছিল করেছি, প্রতিটি প্রোগ্রামে সকল উপজেলা থেকে মহিলাদের কনভেন্স করে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক ভুমিকা পালন করতে হয়। এগুলো একেক লোক একেক রকম বলবে। আপনি ভালো করেই আমাকে চেনেন ও জানেন। আমি রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে, এই রাজনীতির কারণে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। আর আমি জেলার রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত থাকি। উপজেলার কোনো বিষয়ে কোনো প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ খাটানোর কোনো প্রয়োজন নেই। আমি এ ধরণের কাজ কখনও করবো না। কারণ আমার রাজনীতি বিলীন করে দিবো না। আমি নওগাঁ জেলার সভানেত্রী হিসেবেই সব জায়গায় বক্তব্য দিই। কাজেই এমপির মিসেস হিসেবে এলাকায় রাজনীতিতে প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ কখনই করিনি, দরকার কি? এছাড়া কোনো অফিস আদালতে গিয়ে প্রভাব খাটানোর কোন প্রমাণও কেউ দিতে পারবে না।

পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলে বিএনপি প্রার্থী প্রবীণ নেতা সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খান বলেন, আমার কারণেই আমি পরাজিত হয়েছি। আমি কারো দোষ দিব না। আর অন্যান্য বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারো ভাই আওয়ামী লীগ নেতা, কেউ ডাইরেক্ট অন্য প্রার্থীর ভোট করেছে আবার কারো ইচ্ছে আছে এমপি হওয়ার। আপনি আমাকে জিজ্ঞেস না করে এলাকায় এসে তদন্ত করেন তাহলেই পেয়ে যাবেন। আমি কাউকে দূরে রাখিনি। তারপরও বলছি আমার কারণেই আমি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছি।

উল্লেখ্য, পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-২ আসনে বিভিন্ন দলের ৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এখানে বিএনপির তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খানকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। তিনি (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৫২৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামসুজ্জোহা খান (ধানের শীষ) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩ ভোট। জামায়াত প্রার্থী ৬ হাজার ৯৯৩ ভোটোর ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। আর আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মতিবুল ইসলাম ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৫৮০ ভোট। এ আসনের ১২৪টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৬ জন।  এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭০টি। যা মোটের ভোটের ৭৬ দশমিক ৮১ শতাংশ।