নওগাঁয় শতকোটির সড়ক উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করেছেন প্রকৌশলী নূরে আলম
- আপডেট সময় : ০৯:৪৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬ ১২১ বার পড়া হয়েছে
বিশেষ প্রতিনিধি : নওগাঁ-বগুড়া বাইপাস মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজের শেষ পর্যায়ে তদারকি করছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত সাইড ইঞ্জিনিয়ার রায়হানুল। প্রায় ৩০ কোটি টাকার এই কাজ খুব ভালোভাবে করা হয়েছে বলে জানালেন তিনি। কারণ হিসেবে বলছেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিক এই কাজের দেখভাল করেছেন। একই ভাবে মান্দা-নিয়ামতপুর ও নওগাঁ-বদলগাছী সড়কের কাজ ভালোভাবে করতে হয়েছে বলে জানালেন এম এ ইঞ্জিনিয়ারিং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দেখভালের দায়িত্বে থাকা জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, কাজের শুরু থেকে সব সময় প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিক তদারকি করেছেন। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখনও কিছু জায়গায় কাজ সমাপ্ত করা যায়নি ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায়।
এভাবেই জেলায় প্রায় শতকোটি টাকার সড়ক উন্নয়নের কাজ করা হয়েছে তরুণ এই প্রকৌশলীর তদারকিতে। যেখানে নেই কোনো অভিযোগ। নির্মাণ করেছেন চারলেনের সড়ক। আবার সড়ক নির্মাণ কাজের পাশাপাশি করেছেন সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজও। গত ৩ বছরে বদলে গেছে নওগাঁর সড়কের দৃশ্যপট।নওগাঁ জেলায় আধুনিক ও টেকসই সড়ক নির্মাণ ও প্রশস্তকরণের কাজে ডিজাইন ও নিয়মনীতি অনুসারে করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিক। অনেক বাঁধা বিপত্তি ও প্রতিকুলতা কাটিয়ে তিন বছরে প্রায় শতকোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন তিনি। এতে করে নওগাঁয় ব্যাপক সুনাম রয়েছে তাঁর। নূরে আলম সিদ্দিকের মতো আরেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান হাবীবও সঠিক তদারকি করেন সড়ক উন্নয়নের কাজে। তিনি পত্নীতলা সাব- ডিভিশনের দায়িত্বে আছেন।
জানা যায়, নূরে আলম সিদ্দিক নওগাঁ সড়ক বিভাগে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর যোগদান করেন। চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রথম কাজ শুরু করেন রাণীনগর হতে আবাদপুকুর সড়কের কাজ। তিন বছর পার হয়েছে এখনও ভালো আছে সড়কটি। এরপর একে একে করেছেন একাধিক সড়ক উন্নয়নের কাজ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেগপেতে হয় সান্তাহার ঢাকা রোড হতে রাণীনগর রেলস্টেশন পর্য়ন্ত ৮ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজে। ছিল রেলওয়ের ঝামেলা, ছিল স্থানীয় ঝামেলা, সেই সাথে ছিল বিদ্যুতের খুঁটি সড়ানোর ঝামেলা। সবকিছু কৌশলে ও আন্ত বিভাগীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাটিয়ে কাজের বাস্তবাায়ন করেন তিনি। যোগদানের পর থেকেই তাঁর অধীনে বেশ কিছু সড়ক উন্নয়নের কাজ দেখভালের দায়িত্ব পড়ে। আর এই সকল কাজ সঠিক তদারকির মাধ্যমে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছেন তিনি। ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সড়কের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ তিনি নিষ্ঠার সাথে সমাপ্ত করেন। এছাড়া বদলগাছী সড়কে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় এখনও কিছু কাজ থমকে আছে। সমাপ্ত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অনবরত। এদিকে সড়ক উন্নয়নের কাজ করতে গিয়ে তিনি একাধিক জায়গায় দুর্ঘটনা রোধে গোলচত্তর করেছেন। পাশাপাশি সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অন্যান্য কাজ করেছেন।
আবাদপুকুর এলাকার পথচারী নিপেন ও নয়ন শেখ বলেন, আগে খুব ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে এই সড়কে। সড়কের অবস্থা ছিল জরাজীর্ণ। গত তিন বছর থেকে খুব ভালোভাবে চলাচল করতে পারছি। মাত্র ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে রাণীনগর থেকে আবাদপুকুর যাতায়াত করা যায়। একইভাবে বদলগাছীর সড়কটি জরাজীর্ণ ছিল বলে জানালেন পথচারী মিঠু। তবে আরও কিছু কাজ অসমাপ্ত আছে বলে তারা জানালেন। যা ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে। এতে করে মাঝে মাঝে দুর্ঘটনা ঘটে। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার সমাধান করে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবে।
নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য সমাপ্ত নওগাঁ-বগুড়া ৮ কিলোমিটার বাইপাস মহাসড়কটি ১৮ ফিট থেকে ৩৪ ফিট প্রস্থে উন্নীত করা হয়েছে । উপ-সহকারী প্রকৌশলীসহ নিজে নিবিড় তদারকির মাধ্যমে কাজের গুনগত মান বজায় রাখা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই মানসম্মত, টেকসই ও নিরাপদ সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরি করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তরুণ এই প্রকৌশলী। তিনি আরো বলেন, এখানে যোগদানের পরই রাণীনগর-আবাদপুকুর সড়কটির রাত-দিন কাজ করা হয়েছে। যা এখনও খুব ভালো আছে। তবে সান্তাহার থেকে রাণীনগর স্টেশন পর্যন্ত সড়কটি করতে অনেক প্রতিকূলতা পার করতে হয়েছে। এভাবে প্রায় শতকোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন কাজের তদারকি করেছি। আশা করছি আগামীতেও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবো।
নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক বলেন, এই জেলায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়নের কাজ করা হয়েছে। আমার সকল স্টাফ সঠিক তদারকির মাধ্যমে সড়কের কাজগুলো করে নিতে পেরেছে। আর ভালো কাজ করে নিতে পারলে নিজেদের খুব ভালো লাগে। আশা করি আগামী দিনেও সঠিক তদারকি অব্যাহত থাকবে।









