ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
সংবাদ প্রকাশের পর এসআই ক্লোজ : বদলগাছীতে ৩ হাজার টাকার ফোনে ৪ হাজার ঘুষ মান্দায় সন্ত্রাসী রাজু মেম্বারের গ্রেপ্তার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম সারাদেশে খাল খননের মাধ্যমে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন করেছিলেন জিয়াউর রহমান —নিয়ামতপুরে ভূমিমন্ত্রী আদমদীঘিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ইফতার পার্টি পরিচালনাকারী আশিক গ্রেপ্তার সাপাহারের গোপালপুর ফাজিল মাদ্রাসায় নতুন ভবনের ছাদ ঢালাই কাজের উদ্বোধন বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বিষয়ে উঠান বৈঠক নিয়ামতপুরে ৮টি ইউনিয়ন পরিষদে জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান বিষয়ক কর্মশালা  মান্দায় পুলিশের সহায়তায় বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ আত্রাইয়ে স্ত্রী-সন্তানকে জবাই করে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা নওগাঁয় শতকোটির সড়ক উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করেছেন প্রকৌশলী নূরে আলম

নওগাঁয় জামানত হারালেন স্বতন্ত্র ও সাবেক এমপি-মন্ত্রীসহ ২০জন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫২:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২১১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নওগাঁ ডেস্ক : অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন দলীয় ২৭জন এবং স্বতন্ত্র ৫জনসহ ৩২জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। তাদের মধ্যে ২০জন প্রার্থীই জামানত খোয়াতে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোট গ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কোনো প্রার্থী তার নির্বাচনি এলাকার প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়। এবার, সংসদ সদস্য নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনুকূলে ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হয়েছে। এরপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আট শতাংশ ভোট না পেলে ওই ২০জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। ফলাফল ঘোষণা পর জানা যায়, নওগাঁ-১ আসনের তিনজন, নওগাঁ-২ আসনে একজন, নওগাঁ-৩ আসনে ছয় জন, নওগাঁ-৪ আসনে চার জন, নওগাঁ-৫ আসনে তিন জন এবং নওগাঁ-৬ আসনে তিন জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে।

আসন ভিত্তিক জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাওয়া প্রার্থীরা : নওগাঁ-১ (পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর) আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। অনুষ্ঠিত ভোটে এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (মোটরসাইকেল) প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৮৮টি ভোট। আর জাতীয় পার্টির আকবর আলী (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ২৪৩ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: আব্দুল হক শাহ্ (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৮ ভোট। এই আসনে ১৬৬ টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ৩লাখ ৬৭ হাজার ৫১১টি। কাজেই এই তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। এদিকে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৬ ভোট।

নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনে বিভিন্ন দলের ৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এদের মধ্যে একজন প্রার্থী জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। এই আসনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মতিবুল ইসলাম ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৫৮০ ভোট। এই আসনে ১২৪ টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৬ জন।  এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭০ টি। ৮শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। অপরদিকে বিএনপির তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খানকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক। তিনি (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৫২৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামসুজ্জোহা খান (ধানের শীষ) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩ ভোট।

নওগাঁ-৩ (বদলগাছী ও মহাদেবপুর) এই আসনে বিভিন্ন দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। অনুষ্ঠিত ভোটে এদের মধ্যে ছয়জন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। এই আসনে সাবেক ডেপুটি স্পিকার আকতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকি জনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (কলস) প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১২৯টি ভোট। আর বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এর আব্দুল্লাহ আল-মামুন সৈকত (টেলিভিশন) প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ১৯৫ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর কালিপদ সরকার (মই) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২৩৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী নাসির বিন আছগর (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৪৩ ভোট, জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৬৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন (জাহাজ) প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৮২৩ ভোট। এই আসনে ১৪২টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ৩লাখ ২১ হাজার ৯৬৭টি। কাজেই এরা সকলেই জামানত হারাতে বসেছেন। এদিকে বিএনপির প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের মাওলানা মাহফুজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৪২১ ভোট।

নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে বিভিন্ন দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এদের মধ্যে চারজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। এখানে বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির  ডা: এস এম ফজলুর রহমান (কাস্তে) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৩১৩ ভোট, জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৩২৭ ভোট, ইললামী আন্দোলন বাংলদেশ পার্টির সোহরাব হোসাইন (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৬০৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসা: আরফানা বেগম (কলস) প্রতীকে পেয়েছেন ৭১২ ভোট। এই আসনে ১১৭টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬০ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২লাখ ৪১ হাজার ৮৪৮টি। এরা সকলেই জামানত খোয়াতে বসেছেন। অপরদিকে জামায়াতের জেলা আমির আব্দুর রাকিবকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ইকরামুল বারি টিপু। তিনি (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুর রাকিব (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৫৮৫ ভোট।

নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে বিভিন্ন দলের ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতার করেছেন। এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। অনুষ্ঠিত প্রাপ্ত ভোটে জাতীয় পার্টির মো: আনোয়ার হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৭৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: আব্দুর রহমান (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ১০১ ভোট এবং বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির শফিকুল ইসলাম (কাস্তে) প্রতীকে পেয়েছেন ৭৪১ ভোট। এই আসনে ১১৮টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭টি। এরা সকলেই জামানত হারাতে বসেছেন। অপরদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৭৪৭ ভোট।

নওগাঁ-৬ (আত্রাই ও রানীনগর) আসনে বিভিন্ন দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। অনুষ্ঠিত প্রাপ্ত ভোটে আসনটিতে বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (মোটরসাইকেল) প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৬৩৮ ভোট। অপরদিকে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) আতিকুর রহমান রতন মোল্লা (হাতি) প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫৫ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৩ ভোট। এই আসনে ১১৫টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২লাখ ৩২ হাজার ৯২৩টি। নিয়ম অনুযায়ী ৮শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তারা সকলেই জামানত হারাচ্ছেন। এদিকে বিএনপির প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খবিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৯ ভোট।

নওগাঁ জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল মোত্তালিব বলেন, এবার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা করে জামানত দিতে হয়েছে। অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কেউ যদি তার নির্বাচনী এলাকার প্রদত্ত ভোটের ৮শতাংশ ভোট না পান, তাহলে তাঁর জমাকৃত জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, জেলার এই ৬টি আসনে ভোটার ছিল ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন এবং নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন। এদের মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিল মোট ২১ জন। জেলার ৭৮২ টি কেন্দ্রে মোট ৭৫ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোটার ভোট প্রদান করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নওগাঁয় জামানত হারালেন স্বতন্ত্র ও সাবেক এমপি-মন্ত্রীসহ ২০জন

আপডেট সময় : ১১:৫২:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নওগাঁ ডেস্ক : অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন দলীয় ২৭জন এবং স্বতন্ত্র ৫জনসহ ৩২জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। তাদের মধ্যে ২০জন প্রার্থীই জামানত খোয়াতে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোট গ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কোনো প্রার্থী তার নির্বাচনি এলাকার প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়। এবার, সংসদ সদস্য নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনুকূলে ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হয়েছে। এরপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আট শতাংশ ভোট না পেলে ওই ২০জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। ফলাফল ঘোষণা পর জানা যায়, নওগাঁ-১ আসনের তিনজন, নওগাঁ-২ আসনে একজন, নওগাঁ-৩ আসনে ছয় জন, নওগাঁ-৪ আসনে চার জন, নওগাঁ-৫ আসনে তিন জন এবং নওগাঁ-৬ আসনে তিন জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে।

আসন ভিত্তিক জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাওয়া প্রার্থীরা : নওগাঁ-১ (পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর) আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। অনুষ্ঠিত ভোটে এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (মোটরসাইকেল) প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৮৮টি ভোট। আর জাতীয় পার্টির আকবর আলী (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ২৪৩ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: আব্দুল হক শাহ্ (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৮ ভোট। এই আসনে ১৬৬ টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ৩লাখ ৬৭ হাজার ৫১১টি। কাজেই এই তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। এদিকে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৬ ভোট।

নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনে বিভিন্ন দলের ৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এদের মধ্যে একজন প্রার্থী জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। এই আসনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মতিবুল ইসলাম ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৫৮০ ভোট। এই আসনে ১২৪ টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৬ জন।  এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭০ টি। ৮শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। অপরদিকে বিএনপির তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খানকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক। তিনি (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৫২৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামসুজ্জোহা খান (ধানের শীষ) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩ ভোট।

নওগাঁ-৩ (বদলগাছী ও মহাদেবপুর) এই আসনে বিভিন্ন দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। অনুষ্ঠিত ভোটে এদের মধ্যে ছয়জন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। এই আসনে সাবেক ডেপুটি স্পিকার আকতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকি জনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (কলস) প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১২৯টি ভোট। আর বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এর আব্দুল্লাহ আল-মামুন সৈকত (টেলিভিশন) প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ১৯৫ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর কালিপদ সরকার (মই) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২৩৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী নাসির বিন আছগর (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৪৩ ভোট, জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৬৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন (জাহাজ) প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৮২৩ ভোট। এই আসনে ১৪২টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ৩লাখ ২১ হাজার ৯৬৭টি। কাজেই এরা সকলেই জামানত হারাতে বসেছেন। এদিকে বিএনপির প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের মাওলানা মাহফুজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৪২১ ভোট।

নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে বিভিন্ন দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এদের মধ্যে চারজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। এখানে বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির  ডা: এস এম ফজলুর রহমান (কাস্তে) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৩১৩ ভোট, জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৩২৭ ভোট, ইললামী আন্দোলন বাংলদেশ পার্টির সোহরাব হোসাইন (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৬০৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসা: আরফানা বেগম (কলস) প্রতীকে পেয়েছেন ৭১২ ভোট। এই আসনে ১১৭টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬০ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২লাখ ৪১ হাজার ৮৪৮টি। এরা সকলেই জামানত খোয়াতে বসেছেন। অপরদিকে জামায়াতের জেলা আমির আব্দুর রাকিবকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ইকরামুল বারি টিপু। তিনি (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুর রাকিব (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৫৮৫ ভোট।

নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে বিভিন্ন দলের ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতার করেছেন। এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। অনুষ্ঠিত প্রাপ্ত ভোটে জাতীয় পার্টির মো: আনোয়ার হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৭৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: আব্দুর রহমান (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ১০১ ভোট এবং বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির শফিকুল ইসলাম (কাস্তে) প্রতীকে পেয়েছেন ৭৪১ ভোট। এই আসনে ১১৮টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭টি। এরা সকলেই জামানত হারাতে বসেছেন। অপরদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৭৪৭ ভোট।

নওগাঁ-৬ (আত্রাই ও রানীনগর) আসনে বিভিন্ন দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। অনুষ্ঠিত প্রাপ্ত ভোটে আসনটিতে বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (মোটরসাইকেল) প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৬৩৮ ভোট। অপরদিকে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) আতিকুর রহমান রতন মোল্লা (হাতি) প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫৫ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৩ ভোট। এই আসনে ১১৫টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২লাখ ৩২ হাজার ৯২৩টি। নিয়ম অনুযায়ী ৮শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তারা সকলেই জামানত হারাচ্ছেন। এদিকে বিএনপির প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খবিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৯ ভোট।

নওগাঁ জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল মোত্তালিব বলেন, এবার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা করে জামানত দিতে হয়েছে। অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কেউ যদি তার নির্বাচনী এলাকার প্রদত্ত ভোটের ৮শতাংশ ভোট না পান, তাহলে তাঁর জমাকৃত জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, জেলার এই ৬টি আসনে ভোটার ছিল ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন এবং নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন। এদের মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিল মোট ২১ জন। জেলার ৭৮২ টি কেন্দ্রে মোট ৭৫ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোটার ভোট প্রদান করেছেন।