ঢাকা ০৪:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
সংবাদ প্রকাশের পর এসআই ক্লোজ : বদলগাছীতে ৩ হাজার টাকার ফোনে ৪ হাজার ঘুষ মান্দায় সন্ত্রাসী রাজু মেম্বারের গ্রেপ্তার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম সারাদেশে খাল খননের মাধ্যমে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন করেছিলেন জিয়াউর রহমান —নিয়ামতপুরে ভূমিমন্ত্রী আদমদীঘিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ইফতার পার্টি পরিচালনাকারী আশিক গ্রেপ্তার সাপাহারের গোপালপুর ফাজিল মাদ্রাসায় নতুন ভবনের ছাদ ঢালাই কাজের উদ্বোধন বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বিষয়ে উঠান বৈঠক নিয়ামতপুরে ৮টি ইউনিয়ন পরিষদে জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান বিষয়ক কর্মশালা  মান্দায় পুলিশের সহায়তায় বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ আত্রাইয়ে স্ত্রী-সন্তানকে জবাই করে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা নওগাঁয় শতকোটির সড়ক উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করেছেন প্রকৌশলী নূরে আলম

সাপাহারে সম্পত্তি থেকে সৎ মা ও নাবালক শিশুদের বঞ্চিত করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ১০৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টার, সাপাহার : নওগাঁর সাপাহারে মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদে এবং নায্য পাওনা আদায়ের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক অসহায় ভুক্তভোগী নারী। আজ বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে সাপাহার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার কৈবর্ত্তগ্রামের মৃত এরশাদ আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী মোসাঃ উমেশা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে উমেশা খাতুন অভিযোগ করেন, তার স্বামী এরশাদ আলী গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি প্রথম পক্ষের ৬ সন্তান এবং দ্বিতীয় পক্ষের (উমেশা খাতুন) দুই নাবালক সন্তান রেখে যান। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই প্রথম পক্ষের বড় ছেলে মারকাজ সাবাহ আল আহম্মদ আল ইসলামী মাদ্রাসার পরিচালক ড. কাওসার এরশাদ মুহাম্মদ মাদানীসহ তার অন্য ভাই-বোনরা সৎমা উমেশা খাতুন ও তার এতিম সন্তানদের প্রাপ্য সম্পদ বুঝিয়ে না দেওয়ায় দুই এতিম সন্তাদের মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য করছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, বিবাদীগণ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্বামীর রেখে যাওয়া আম বাগান, আবাদী জমি এবং পুকুরের আয়ের কোনো অংশ তাদের দিচ্ছেন না। এমনকি সম্পত্তির প্রয়োজনীয় দলীলাদিও কৌশলে গোপন করে রাখা হয়েছে। এছাড়া মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া দুটি ট্রাক্টরের মধ্যে একটি বিক্রি করে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বিবাদীগণ।

ভুক্তভোগী উমেশা খাতুন আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মিমাংসার চেষ্টা করলেও বিবাদীগণ প্রভাবশালী হওয়ায় তারা কোনো সিদ্ধান্ত মানছেন না। উল্টো আমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকি আমাকে স্বামীর ভিটা থেকে কৌশলে বের করে দিয়ে গ্রামের নিচে বিদেশী অনুদানে নির্মিত একটি ঘরে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই ঘরটি বিবাদীগণ নিজেদের খরচে করে দেওয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে জানা যায় সেটি আসলে বিদেশী সংস্থার দেওয়া গৃহহীনদের অনুদান ছিল। বর্তমানে মৃত স্বামীর সামান্য পেনশনের টাকায় কোনোমতে দুই সন্তান নিয়ে দিনাতিপাত করছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে নাবালক দুই সন্তান শফিকুল এরশাদ ও তাহেরা এরশাদ উপস্থিত ছিলেন। ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের নায্য পাওনা ও দলীলাদি উদ্ধারে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে ড. কাওসার এরশাদ মুহাম্মদ মাদানী বলেন, আমি দেশের বাহিরে সব সময় থাকি, এবিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমি বাড়ীতেই থাকি না। উনিই (উমেশ খাতুন) বলবেন সংসারটা কে চালায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সাপাহারে সম্পত্তি থেকে সৎ মা ও নাবালক শিশুদের বঞ্চিত করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৯:২৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার, সাপাহার : নওগাঁর সাপাহারে মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদে এবং নায্য পাওনা আদায়ের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক অসহায় ভুক্তভোগী নারী। আজ বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে সাপাহার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার কৈবর্ত্তগ্রামের মৃত এরশাদ আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী মোসাঃ উমেশা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে উমেশা খাতুন অভিযোগ করেন, তার স্বামী এরশাদ আলী গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি প্রথম পক্ষের ৬ সন্তান এবং দ্বিতীয় পক্ষের (উমেশা খাতুন) দুই নাবালক সন্তান রেখে যান। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই প্রথম পক্ষের বড় ছেলে মারকাজ সাবাহ আল আহম্মদ আল ইসলামী মাদ্রাসার পরিচালক ড. কাওসার এরশাদ মুহাম্মদ মাদানীসহ তার অন্য ভাই-বোনরা সৎমা উমেশা খাতুন ও তার এতিম সন্তানদের প্রাপ্য সম্পদ বুঝিয়ে না দেওয়ায় দুই এতিম সন্তাদের মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য করছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, বিবাদীগণ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্বামীর রেখে যাওয়া আম বাগান, আবাদী জমি এবং পুকুরের আয়ের কোনো অংশ তাদের দিচ্ছেন না। এমনকি সম্পত্তির প্রয়োজনীয় দলীলাদিও কৌশলে গোপন করে রাখা হয়েছে। এছাড়া মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া দুটি ট্রাক্টরের মধ্যে একটি বিক্রি করে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বিবাদীগণ।

ভুক্তভোগী উমেশা খাতুন আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মিমাংসার চেষ্টা করলেও বিবাদীগণ প্রভাবশালী হওয়ায় তারা কোনো সিদ্ধান্ত মানছেন না। উল্টো আমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকি আমাকে স্বামীর ভিটা থেকে কৌশলে বের করে দিয়ে গ্রামের নিচে বিদেশী অনুদানে নির্মিত একটি ঘরে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই ঘরটি বিবাদীগণ নিজেদের খরচে করে দেওয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে জানা যায় সেটি আসলে বিদেশী সংস্থার দেওয়া গৃহহীনদের অনুদান ছিল। বর্তমানে মৃত স্বামীর সামান্য পেনশনের টাকায় কোনোমতে দুই সন্তান নিয়ে দিনাতিপাত করছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে নাবালক দুই সন্তান শফিকুল এরশাদ ও তাহেরা এরশাদ উপস্থিত ছিলেন। ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের নায্য পাওনা ও দলীলাদি উদ্ধারে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে ড. কাওসার এরশাদ মুহাম্মদ মাদানী বলেন, আমি দেশের বাহিরে সব সময় থাকি, এবিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমি বাড়ীতেই থাকি না। উনিই (উমেশ খাতুন) বলবেন সংসারটা কে চালায়।